‘৩৬ ঘণ্টা পরও করোনাভাইরাসে মৃত বোনের লাশ দাফনেও কাউকে পাচ্ছি না’

করোনা জ্বরে চীনের পর সবচেয়ে বেশি কাঁপছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৭ হাজার ৬৬০ জন। মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১২৬৬ জন।

করোনা পরিস্থিতি ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির সরকার।

এমন পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ও নির্মম অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন এক ইতালীয় নাগরিক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বোনের লাশ নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছেন তিনি। ৩৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও বোনের মরদেহ কোথায় দাফন করবেন, এ বিষয়ে কে তাকে সাহায্য করবেন তার কূলকিনারা করতে পারছেন না তিনি।

নির্মম এই ঘটনা ঘটেছে লুকা ফ্রাঞ্জেসে নামে এক ইতালিয়র সঙ্গে। তিনি একজন অভিনেতা এবং মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক।

নিজের অবস্থার কথা জানাতে ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদতে কাঁদতে লুকা বলেন, ‘আমার বোন তার বিছানায় মরে পড়ে আছে। আমি জানি না কী করতে হবে। আমি আমার বোনকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে পারছি না। সব প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে ত্যাগ করেছে। আমি প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ আমাকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। ৩৬ ঘণ্টা হয়ে গেল, করোনাভাইরাসে মৃত বোনের লাশ দাফনেও কাউকে পাচ্ছি না।’

ওই ভিডিও প্রসঙ্গে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, করোনায় মারা যাওয়া ওই তরুণীর নাম তেরেসা ফ্রাঞ্জেসা। ভাই লুকা ফ্রাঞ্জেসের সঙ্গে ইতালির তৃতীয় বৃহত্তম শহর নেপলসে থাকতেন তিনি। আগে থেকেই মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন তেরেসা। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সুস্থ ছিলেন। ইতালিতে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আক্রান্ত হন তেরেসা। দ্রুতই তার শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান তেরেনা।

দেড় দিন পেরিয়ে গেলেও বোনের মৃতদেহ সৎকারে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছেন না লুকা। কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি এগিয়ে আসেনি। ৩৬ ঘণ্টা ধরেই বিছানায় পড়ে আছে বোনের নিথর দেহ।

যেজন্য লাইভে এসে লুকা আহাজারি করেন, ‘আমাদেকে নোংরা আবর্জনার চেয়েও বাজে জিনিস হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এবং আমাদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হচ্ছে।’

লুকা আরো অভিযোগ করেন, করোনার চিকিৎসা পাননি তার বোন। কারণ বোনের মৃত্যুর পরই স্বাস্থ্যকর্মীরা তার টেস্ট করে নিশ্চিত হন যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে তেরেসার।

লুকার অভিযোগের এই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করার পরপরই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় ইতালির বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম দাবি করে, লুকা এবং তার বোনই নয়, আরো অনেকেই এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন সেখানে।