১১ বছরেও উদঘাটন হয়নি বিডিআর বিদ্রোহের পেছনের ঘটনা

বিডিআর বিদ্রোহের পেছনের ঘটনা উদঘাটনে এখনও হয়নি কোনো তদন্ত কমিশন। উদ্যোগ নেই গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানেরও। তবে বিদ্রোহের পরপরই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংস্কার শুরু হয়, যা আজও চলমান।

এরইমধ্যে বিডিআরের বদলে নাম রাখা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। পরিবর্তন এসেছে বাহিনীটির কাঠামোতেও। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহের আঘাত কাটিয়ে গেল এগারো বছরে শক্তি ও মনোবল পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে বিজিবি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর সদর দপ্তরে জওয়ানদের বিদ্রোহে নিহত হন সাতান্ন সেনাকর্মকর্তাসহ মোট চুয়াত্তর জন।

বিদ্রোহের ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বিধ্বস্ত বাহিনীটি পুনর্গঠনে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান তৎকালীন সেনাকর্মকর্তা মইনুল ইসলাম। তার মতে, ওই ঘটনার আঘাত কাটিয়ে উঠে বিজিবি গত এগারো বছরে শক্তি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হলেও এখনও সংস্কারের অনেক কিছু বাকি রয়েছে।

বিজিবি’র সাবেক মহাপরিচালক লে. জে. (অব.) মইনুল ইসলাম বলেন, “বিজিবি হেড কয়ার্টার, এর পর ছিল সেক্টর হেট কোয়ার্টার এবং বেটালিয়ন। এর মাঝখানে একটা স্তর গঠন করা হয়েছে রিজিয়ন। কারণ সবকিছু যেন পিলখানার অধিনে না থাকে, রিজিয়নগুলো যেন দায়িত্ব নেয়। ছোট ছোট বিষয় গুরুত্ব সহকারে না নিলে এগুলো এক হয়ে বড় কিছু হয়, এ জন্য হুঁশিয়ার থাকতে হবে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, “এই উথাল পাথালের মধ্যেও তারা তাদের সীমান্ত সুরক্ষার দক্ষতা বজায় রেখেছে। তাদের নানা পরিবর্তনের ফলে আমরা দেখেছি তাদের সক্ষমতা বেড়েছে।”

ভবিষ্যতে বিপর্যয় ঠেকাতে বিডিআর বিদ্রোহের পেছনের ঘটনা উদঘাটন এবং ওই সময়ে গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান জরুরি বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

২০১৭ সালে ১৩৯ জনের ফাঁসি বহাল রেখে হাইকোর্ট বলেছে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই বিডিআর বিদ্রোহের চক্রান্ত হয়েছিল।