যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু

রতন দাশ, চকরিয়া, সাতকানিয়া প্রতিনিধি:স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে বিয়ে দেন অসহায় মা। যৌতুক ছাড়া এ বিয়েতে নববধূকে তিন কানি জমি দেওয়া হবে বলে স্ট্যাম্পে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয় বর। কিন্তু বিয়ের দুই মাস না পেরুতেই উল্টো যৌতুকের দাবিতে নববধূ সালমা বেগমকে (১৪) স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে পৃথিবী ছাড়তে হলো।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে স্বামীর নির্যাতনে আহত সালমা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান। সালমা কক্সবাজার পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের পণ্ডিত পাড়া এলাকার মৃত মো. বাদশার মেয়ে।

নিহত সালমার মামা শফিউল আলম চ‍্যানেল এস কে বলেন, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামের জাফর আলমের ছেলে মো. আলমগীরের সাথে আমার ভাগিনীর বিয়ে হয়। সে সময় আমরা জানতাম না তার বহুবিবাহের কথা। জানতাম না সে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। স্থানীয় সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন আমার বোনকে ভুল বুঝিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি করায়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে আলমগীর তিন লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে। তা দিতে না পারায় আমার ভাগিনীর উপর নির্যাতন চালানো হয়।

সালমার মা মর্তুজা বেগম বলেন, সালমার জন্মের পর তার বাবা মারা যান। সেই থেকে নানা কষ্টে মেয়েকে লালন পালন করেছি। আমি মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছি। টইটং শফিকিয়া মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল আমার মেয়ে। আমাদের প্রতিবেশি শীর্ষ সন্ত্রাসী নাছিরের চাপে ও সন্ত্রাসী আলমগীরের প্রলোভনে পড়ে আমি মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলাম। আমার মেয়ের সাথে এমনটা ঘটবে জানলে তার সাথে কখনও মেয়ে বিয়ে দিতাম না। নির্যাতনের খবর পেয়ে মেয়েকে আনতে গেলে ডাকাত আলমগীর ও নাছির আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে আমি ভীত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ তারিখ স্থানীয়দের কাছে খবর পাই আমার মেয়ের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাকে দেখতে গেলে আলমগীর ও তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ হলে ২০ তারিখ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করে তারা। সেখান থেকে জামাই আলমগীর ফোন দিয়ে আমাকে জীবিত অবস্থায় মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে চাইলে মেডিকেলে যেতে বলে। অমি সেখানে গিয়ে আমার মেয়ের মরদেহ পাই। আমার মেয়ের উপর পৈচাশিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের পর পেকুয়ায় আনা হচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামী আলমগীরকে আটক করেছে পুলিশ। সে এখন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা হেফাজতে রয়েছে। গৃহবধূ সালমা বেগম নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।