বেশ আগে থেকেই বার্সা ছাড়তে চেয়েছি: মেসি

ক্লাব সভাপতির কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় মেসি।

 

অন্য কোন কারণ নয়, ক্লাব প্রেসিডেন্ড বার্তেমুর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েই বার্সেলোনা ছাড়ার সিন্ধান্ত নিয়েছেন মেসি, এবার সেটা নিজেই পরিষ্কার করলেন এল-এম-টেন। তবে বায়ার্নের সাথে ৮-২ গোলে হারের পরই এই সিন্ধান্ত নেননি মেসি। অনেক আগেই তিনি ক্লাব প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন বার্সা ছাড়ার কথা। তবে সারা বছর যে বার্সা সভাপতি মেসিকে বলে এসেছে মৌসুম শেষে সিন্ধান্ত নিতে, সেই এখন ক্লাব ছাড়ার পথে মেসির মূল বাধা। গোল ডট কমকে দেয়া স্বাক্ষাতকারে মেসি এসব কথা বলেছেন।

টানা ১০ দিনের নাটকীয়তা। মেসির বার্সা ছাড়ার খবরে ওলোট-পালট ভার্চুয়াল দুনিয়া। টুইটারে উঠল ঝড়। প্রতি বেলার সংবাদের শিরোনাম। ভক্তরা করেছে বিক্ষোভ। তবে ক্লাবে এক ব্যুরো ফ্যাক্স পাঠানো ছাড়া কোন কিছু নিয়েই এত দিন মুখ খোলেননি মেসি।

অবশেষে ক্যামেরার সামনে আসলেন এলএম টেন, উত্তর দিলেন এতদিনে ভক্তদের জানতে চাওয়া নানা প্রশ্নের। অনেকেই ভেবেছিলেন বায়ার্নের সাথে ৮-২ এর হারেই মেসি ক্লাব পাল্টানোর সিন্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু মেসি বলছেন ক্লাব ছাড়ার চিন্তা ছিল আগে থেকেই। ক্লাব প্রেসিডেন্টকেও জানিয়েছিলেন। তবে সেই বার্তেমুই মেসির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

লিওনেল মেসি বলেন, আমি ক্লাব সভাপতিকে সারা বছরই বলেছি যে আমি ক্লাব ছাড়তে চাই। আমি অনুভব করেছি যে আমার সময় ফুরিয়ে এসেছে, ক্লাবে তরুন খেলোয়াড় দরকার। কিন্তু সভাপতি আমাকে বলেছে মৌসুম শেষে সিদ্ধান্ত নিতে, কিন্ত শেষে তিনি আমার কথা রাখলেন না।

মেসি সব সমই বলে এসেছেন, বার্সাতেই তার ক্যারিয়ার শেষ করতে চান। তিনি সে কথা এখনো অস্বীকার করেন না। কিন্তু বয়স যে বাড়ছে সে উপলব্ধিই লিওকে কঠিনতম সিদ্ধান্ত নিতে সাহস যুগিয়েছে।

মেসি বলেন, আমার খুব খারাপ লাগত কারণ আমি সব সময় চেয়েছি বার্সাতে ক্যারিয়ার শেষ করতে। আমি ট্রেইনিংয়ে অস্বস্তি বোধ করেছি, খেলার মাঝে এমনকি ড্রেসিং রুমেও।

অনেকেই বলে থাকেন টাকার জন্য ক্লাব প্লাল্টাতে চান মেসি। সেই প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে এলএম টেনকে। এ প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, টাকা ‘অর্থ? প্রতি বছরই আমার সামনে সুযোগ ছিল বার্সেলোনায় যা পাই, তার চেয়ে বেশি অর্থে অন্য কোথাও যাওয়ার। অর্থ কিংবা বন্ধু, সব কিছুর ওপরে আমার ক্লাব।

বার্সেলোনা ক্লাবটা মেসির কাছে মায়ের মতো। এখন পর্যন্ত ক্লাবের প্রতি এক বিন্দু ক্ষোভ নেই ওর। প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমুর কর্মকাণ্ডেই যে মেসি ক্লাব ছাড়ার সিন্ধান্ত নিয়েছেন, তা আরও একবার পরিষ্কার হলো আর্জেন্টাইন গ্রেটের কথায়।

মেসি বলেন, এটা প্রাণের ক্লাব। আমার জীবন গড়েছি এখানে। বার্সা আমাকে সবকিছু দিয়েছে, আমি বার্সাকে সবকিছু দিয়েছি। এতটুকু জানি, বার্সাকে আদালতে নেয়ার কথা একবারের জন্যও আমার ভাবনায় আসেনি।

পুরো সাক্ষাতকার জুড়ে মেসি একটা জিনিস পরিষ্কার করেছেন, প্রিয় ক্লাব বার্সেলোর প্রতি তার ভালোবাসা অটুট আছে আগের মতই। তবে ক্লাব প্রেসিডেন্টের বারবার প্রতিশ্রুতি ভাঙা মেসিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তার পরও ভক্ত আর পরিবারে কথা চিন্তা করে অন্তত এই মৌসুমটা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এলএমটেন।