দোহারে ভোটার আইডির নামে অর্থ আদায়

কাজী জোবায়ের আহমেদ, দোহার প্রতিনিধিঃ ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ভোটার আইডি তৈরি বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার ফরহাদ হোসেন বিভিন্ন সময়ে মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার নাম করে টাকা আদায় করেন । উক্ত ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিয়া তালুকদার,হৃদয় হোসেন, ইব্রাহিম মোল্লা,জয়নাল শেখ ও খলিল শেখ এর কাছ থেকে ভোটার আইডি তৈরি করে দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২০০ টাকা করে আদায় করেন।

দীর্ঘদিন পার হলেও তাদের ভোটার আইডি তৈরি করে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। এমন ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা। ভূক্তভোগী জিয়া তালুকদার ও জয়নাল শেখ জানান, আমাদের কাছ থেকে ভোটার আইডি বানানোর কথা বলে ১২০০ করে টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন পার হলেও ভোটার আইডি দিচ্ছে না। দেই দিচ্ছি করে আমাদের হয়রানি করছে। এখন এই ভোটার আইডি না থাকার কারণে আমরা সরকারি অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন এর সাথে মুঠফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে অভিযোগ অস্বিকার করলেও পরে শিকার করে বলেন, আমি ভোটার আইডির জন্য নয়, জন্ম নিবন্ধনের জন্য টাকা নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, সত্যায়িত থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হয়। ভোটার আইডি ও জন্ম নিবন্ধনের নামে এমন টাকা নেয়ার বিধান আছে কিনা,জানতে চাইলে তিনি আর কোনো উত্তর না দিয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন। পরবর্তিতে তার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি।

বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মোল্লা জানান, এই ফরহাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোটার আইডি বাবদ যদি করো কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে তাহলে এটি চরম অন্যায়। প্রশাসনের উচিৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, নতুন ভোটার আইডি তৈরিতে কোনো প্রকার টাকা লাগেনা,পাশাপাশি যিনি ভোটার আইডির আবেদন করবেন তাকে উপস্থিত থেকে আবেদন করতে হবে।

এছাড়া অন্য কেই যদি ভোটার আইডি তৈরি করে দেয়ার নামে অর্থ আদায় করে এটি সম্পূর্ন বেআইনি ও গুরুতর অপরাধ। যদি কেই এমন অনৈতিক কাজ করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দোহার উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা জানান, ভোটার আইডি বা জন্মনিবন্ধনের নামে যদি কেউ অনৈতিক ভাবে টাকা আদায় করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।