চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির এক বছর, থমকে আছে বিচার কাজ

আতঙ্ক-উদ্বেগ আর শোকের একটি বছর পার হলো রাজধানীর চকবাজারে। গত বছরের এইদিনে চুড়িহাট্টায় পুড়ে অঙ্গার হয় ৭০ জন। ওয়াহেদ ম্যানশনের ভিতরে রাসায়নিক গ্যাসের বিস্ফোরণ ও আগুনের সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখনও সেই এলাকা থেকে সরেনি রাসায়নিক কারখানা ও গোডাউন। দেয়া হয়নি মামলার চার্জশিটও।

বিস্ফোরণের পর অভিশপ্ত হাজী ওয়াহেদ ম্যানশন আর সচল হয়নি। তবে ভবনজুড়ে এখনো স্পষ্ট পোড়া দাগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে দিনটি পুরান ঢাকার ইতিহাসে নির্মম একটি দিন।

চুরিহাট্টায় ৭০ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটিও থমকে আছে। এখনও চার্জশিট দেয়নি পুলিশ। এরমধ্যে আসামি ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক ও তার ছেলেরা বেরিয়ে গেছেন জামিনে।

চুড়িহাট্টার আগুন নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পর অন্তত ২টি সুপারিশ দেয়। যার মধ্যে প্রধান ছিল, রাজধানী-বিশেষ করে পুরান ঢাকার সব বাসাবাড়ি থেকে কারাখান ও গোডাউন সরিয়ে ফেলা। কয়েকটি সংস্থা দু-তিনবার অভিযান চালালেও, সে সব থেমে গেছে মাঝপথে।

এদিকে, চুরিহাট্টায় ট্র্যাজেডির এক বছরে ভয়াবহ সেই দিন স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করে নিহতদের স্মরণ করেছে স্থানীয়রা। এছাড়া নানা কর্মসূচি রয়েছে দিনভর।

আজ সকালে ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে জড়ো হয়ে কালো ব্যাজ পরিধান করে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। এছাড়া কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। চকবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনও অংশ নিয়েছে এতে। বিচারের ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে চলছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন চুড়িহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই। এমন মৃত্যু আর কেউ দেখতে চায় না জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।