খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতির এলাকা পরিদর্শন

 জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার সবচেয়ে দূরবর্তী উপজেলা সমুদ্র উপকূলবর্তী সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সর্বাগ্রে আঘাত হানে এই ভূ-খণ্ডে। এক আঘাতের ক্ষত না শুকাতেই আঘাত হানে আরেকটি ঝড়। বারবার বিপর্যস্ত হয় এখানকার জনজীবন। ভারসাম্য হারায় পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। অপরদিকে পাইকগাছা খুলনা জেলার আরেকটি উপদ্রুত এলাকা।

গত ২০ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ সুন্দরবনের বাঁধা অতিক্রম করে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে উপকূলবর্তী কয়রায়। উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী, কয়রা ও মহারাজপুর ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারাত্মকভাবে। পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নও ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই দু’টি উপজেলায় বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক সহস্র ঘরবাড়ি। হাজার হাজার গাছ-পালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা।

ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় অদ্য ২২ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রোজ শুক্রবারে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, খুলনা মোহাম্মদ হেলাল হোসেন খুলনার ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত উপজেলা কয়রা ও পাইকগাছা পরিদর্শন করেন। খুলনা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সেখানে ঘূর্ণিঝড়-দুর্গতদের খোঁজ-খবর নিতে যান। মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক এসময় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, ভেঙ্গে যাওয়া ঘর-বাড়ি, বাঁধ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসহ ক্ষয়-ক্ষতির সাম্যক ধারণা গ্রহণ করেন।

এসময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি পরিবারকে ২ বান্ডল ঢেউটিন ও নগদ ছয় হাজার টাকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও পরিবারগুলোকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, শুকনো খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী (চাল, ডাল, আলু, তেল ইত্যাদি) বিতরণ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), খুলনা জিয়াউর রহমান, পাইকগাছা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জুলিয়া সুকায়না এবং কয়রা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শিমুল বিশ্বাস সেসময় উপস্থিত ছিলেন।