করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতিতে দুর্বলতা, ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা বারবার বলা হলেও একে একে বেরিয়ে আসছে নানা দুর্বলতা। যে চিকিৎসক, নার্স বা স্টাফ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের খেয়াল রাখছে না কেউ। বেলা শেষে ঝুঁকি নিয়ে তাদের ফিরতে হচ্ছে নিজ ঘরে। যা শুধু তাদের পরিবারই নয়, বিপদে ফেলছে গোটা কমিউনিটিকে। শিগগিরই সমস্যা সমাধানের দাবি চিকিৎসক নেতাদের।

এক চিকিৎসক বলেন, যখন এ পেশায় এসেছি। তখন থেকে চিন্তা করেছি যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও দেশের মানুষকে চিকিৎসা দেব।

জীবন তুচ্ছ করে অন্যকে সেবা দেয়ার এমন শপথ অনেকেই নেয়। কিন্তু পালন করেন ক’জন। গল্প উপন্যাস কিংবা নাটক সিনেমা ছাড়িয়ে এমন চরিত্রগুলো কখনো কখনো ধরা দেয় বাস্তবেও। তখনই হয়তো সমাজ তাদের অভিধা দেয় বীর হিসেবে। করোনা যুদ্ধে সেরকমই বীর আমাদের চিকিৎসকরা।

এক চিকিৎসক বলেন, হেল্থ কেয়ার ওয়ার্কার তাদের কাউকে না কাউকে কাজ করতেই হচ্ছে। পারসোনাল ইকুপমেন্ট পরে যতটা সতর্ক থেকে আমরা চেষ্টা করছি রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিতে।

যাদের দিনরাতের পরিশ্রমে কোভিড উনিশ জয় করে বাড়ি ফিরেছেন এগারো জন। কথা হয় তেমন এক চিকিৎসকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমরা নিজের অনু্প্রেরণা, উদ্দীপনা থেকেই কাজ করছি। এছাড়াও এই কাজের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন যারা জড়িত, তারা যদি আমাদের সরঞ্জাম দিয়ে সঠিক ভাবে সহযোগিতা করতো। তাহলে মানুষকে আমরা আরও ভালো সার্ভিস দিতে পারতাম।

রোগীর সংখ্যা এখনও বেশি না, তবুও দিন রাত একাকার এসব হাসপাতালে। তবে অবাক করার বিষয় দায়িত্ব পালণ শেষে এ মানুষগুলোকে আবার বাড়িতেই ফিরতে হয়। ভয় শঙ্কা তখন এ হিরোদেরও কাবু করে।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের সেবা দেয়ার পর আর বাসায় না গিয়ে একটা নির্ধারিত স্থানে থাকাই ভালো।

দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে মাস্তুল হাতে থাকা এ মানুষগুলোর একটু মানসিক প্রশান্তি দেয়াতো রাষ্ট্রেরই দায়। যা করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতির ঘাটতিকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সনাল বলেন, এর জন্য প্রথম থেকেই উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। বিশ্বে কিন্তু করোনা রোধে ভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে আমাদের তো অনেক ঘাটতি রয়েছেই।

এতদিন পরে এসে উত্তরায় একটি হোটেলে এসব চিকৎসক ও সেবিকাবাদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।