একই সড়কে বারবার খোঁড়াখুঁড়ির পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে কি: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বলেছে; ‘রাজধানী ঢাকার সড়কের একই স্থানে বিভিন্ন সেবা সংস্থা খোঁড়াখুঁড়ি করে থাকে। এটা কেন? এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। এর সঙ্গে কি কোনো অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত আছে?’

ঢাকা ও এর চারপাশে বায়ুদূষণ রোধে বেশ কিছু সুপারিশ গতকাল রোববার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি। পরে এ বিষয়ে শুনানিকালে হাইকোর্ট উপরোক্ত মন্তব্য করেন। কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, উন্নয়ন কার্যক্রমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন উক্ত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে সিটি করপোরেশন জরিমানা আরোপ করতে পারে। এক্ষেত্রে দায়ী ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।আদালতে শুনানি শেষে আজ সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখা হয়েছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, আমরা বায়ুদূষণ রোধে আদালতে সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেছি। সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিলে বায়ুদূষণ রোধ হবে। কমিটির সুপারিশে আরো বলা হয়, হাতে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করায় ধুলাবালি বেশি পরিমাণে ছড়ায়। সিটি করপোরেশন এক্ষেত্রে আধুনিক সুইপিং মেশিন ব্যবহার করতে পারে। ছোটো ছোটো হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। হাসপাতালের বর্জ্য রাস্তায় রাখায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মারাত্মক বায়ুদূষণ হচ্ছে। এজন্য বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া সব ধরনের বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, ধুলাবালি যাতে বাতাসের সঙ্গে মিশে না যায় সেজন্য নির্মাণসামগ্রী আবৃত করে রাখতে হবে। পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি নির্মাণকাজে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে জারিকৃত পরিপত্র অনুসরণ করতে হবে। আদালতে সুপারিশগুলো তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন সাঈদ আহমেদ রাজা ও তৌফিক ইনাম টিপু।