আচরণবিধি লঙ্ঘন: নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইসির মামলা

ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকির অভিযোগে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানায় মামলাটি দায়ের করেন জেলা নির্বাচন কমিশনার নওয়াবুল ইসলাম।এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব অশোক দেবনাথসহ নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করতে বৃহস্পতিবার সকালেই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানায় পৌঁছান তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব অশোক দেবনাথসহ নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য।

এদিকে, ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। একই স্থানে মানববন্ধন করেন নিক্সন চৌধুরীর পক্ষের কর্মী ও সমর্থকরা। এতে, উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে নেয়া হয়েছে এবং নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এর আগে, উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। আর সে অভিযোগে সত্যতা পাওয়ায় ফরিদপুরের আদালতে মামলা করা হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তবে, গেল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন নিক্সন চৌধুরী দাবি করেন তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। আর তিনি যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙঘন করে থাকেন তাহলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকও আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি সে সময় আরও জানান, তার বিরুদ্ধে যদি মামলা হয় তাহলে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধেও মামলা হওয়া উচিত। উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগের দিন ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এমপি নিক্সন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে সমর্থককে আটক করায় চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে নিক্সনের বিরুদ্ধে। পরে, রাতে এক জনসভায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নিক্সন চৌধুরী ও তার অনুসারীরা জেলা প্রশাসনের বিষোদগার করেন।